Skip to main content

ভালু আয়া ভালু আয়া লালু মালু কালু আয়া - নজরে ভ্রমণে আজ "শিমুল তলা"


শুভদীপ দে: প্লান টা কয়েক দিন ধরে সাজাচ্ছিলাম কি করে পকেট দিন বাঁচিয়ে কিভাবে দুর্দান্ত একটা ট্রিপ মারা  যায়। বন্ধুদের সাথে কথা বলে, ঘোরার গ্রুপে খোঁজ নিয়ে বউয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে সিদ্ধান্ত নিলাম শিমুলতলা যাবো। বিহারের, শিমুলতলা একটা সময় বাঙালির স্বাস্থ্যোদ্ধারের জায়গা ছিল। যাই হোক আমরা মোট পাঁচজন চেপে বসলাম রাতের বাগ এক্সপ্রেসে। বাড়ি থেকে আনা রুটি মাংস খেয়ে পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে সটান শুয়ে পড়া গেল। ট্রেনে সবাই ঘুমোতে পারে না, আমার বন্ধুকে দেখলাম দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। আমার বউ আর আমি মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে মাঝে মাঝে জেগে কাটিয়ে দিলাম। 
শিমুলতলা নামলাম নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা বাদে অর্থাৎ ভোর সাড়ে চারটে। আমাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন নামল, অবশ্য তা হাতে গোনা। পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্টেশন খালি। ভোঁ শব্দ তুলে ট্রেনটাও মিলিয়ে গেল। আমরা আকাশ দেখতে দেখতে স্টেশনের বাইরে এসে অটো ধরলাম। গন্তব্য যশোদা ধাম, আগে থেকে বুকিং করা ছিল। এখানে মাত্র দুটি থাকার জায়গা আছে। বাকি যা আছে তা হয় কারুর বাড়ি অথবা স্কুল সংলগ্ন কিছু অসংলগ্ন ঘর। চলতে চলতে দেখলাম শিমুলতলা বেশ বর্ধিষ্ণু গ্রাম। বহু বাঙালির বাড়ি, কোনটার নাম ঘোষ কুটির, কোনটার নাম পাল ভবন বা স্বাস্থ্য কুটির। যশোদা ধামে পৌঁছতেই কেয়ারটেকার বজরঙ্গি আমাদের বিছানা রেডি করে শোবার বন্দোবস্ত করে দিল। 
তখনও আলো ফুটতে বেশ দেরি, আমরা শরীরটাকে ছেড়ে দিলাম নরম গদিতে। ঘন্টা দুয়েক ঘুম দেবার পর ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত সুরে। ভালু আয়া, ভালু আয়া, কালু-লালু-মলু আয়া, তারহ তারহ সে খিলতা ফুল... মাস্টারজী পড়াচ্ছেন, বজরঙ্গির বাচ্ছা মেয়েটিকে। কতদিন বাদে এইরকম পরিবেশে কাউকে পড়তে এবং পড়াতে দেখলাম। মনটা ভালো হয়ে গেল। চায়ের অর্ডার দিয়ে হাঁটতে বেরোলাম। বাড়িটি বেশ ছোটখাটো প্রাসাদের মত দেখতে। চারিদিকে সেগুন আর শালের রাশি। এত বড় বাগান যে হেঁটে সম্পূর্ণ করা মুশকিল। চা খেয়ে রেডি হতে হতেই গরম গরম লুচি আর বাঁধাকপির তরকারি এসে গেল। খেতে খেতেই অটোকে ফোন করলাম। 
বেড়াতে যাবার জন্য আমরা প্রস্তুত। অটোচালক রবি ভাইয়া আমাদের প্রথমে নিয়ে গেল হলদি ঝরণা দেখাতে। যেতে যেতে শিমুলতলার গ্রামীণ জীবন উপভোগ করলাম। কি সহজ সাধারণ জীবনযাত্রা। মাটির ঘর, ছাগল, ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে ভরা সংসার। হলদি ফলসের কাছে আসতেই একগাদা ক্ষুদে গাইড আমাদের ঘিরে ধরল। ওদের সাথে চললাম পাহাড়-জঙ্গল ডিঙিয়ে। যেতে যেতে নীল আকাশের হাতছানি আর হাওয়ার শন-শন শব্দ আমাদের মন ভরিয়ে দিচ্ছিল। যাইহোক হলদির উৎসস্থলে এসে হতাশ হলাম। একটি সরু গর্ত দিয়ে ঠান্ডা জল বেরিয়ে আসছে, সেটাই পরে চওড়া হয়ে সরু নালার আকার ধারণ করেছে।
 পাহাড়ের মাথা  থেকে এসার গ্রাম দেখতে বেশ লাগছিলো। আসার  সময় ক্ষুদে গাইডদের খুচরোর আবদার মেটাতেই হল। ওখান থেকে চললাম ধারারা ফলস। ফলস না বলে নদী বলাই ভালো। মালভুমি অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হবার ফলে নদীর গতিপথে অসংখ্য বড় বড় পাথর। ফলে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে জায়গাটি। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতটাই ভালো যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু মুশকিল এখানকার গরীব শিশুগুলি। ওদের দেখলে মন ভারাক্রান্ত হতে বাধ্য। যাইহোক ওদের হাতে কিছু খুচরো দিয়ে আমরা যশোদা ধামের পথ ধরলাম। যশোদা ধামে ফিরে ডিম-ভাত খেয়ে একটু রেস্ট নিয়েই রওনা দিলাম লাট্ট পাহাড়।
 যশোদা ধাম থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার হেঁটে প্রায় ৭০০ ফুট উঁচুতে লাট্ট পাহাড়। সেখান থেকে সূর্যাস্তি স্বর্গ সুখের সমান। সামনে লাট্ট ভ্যালি, দূরে কয়েকশো বছরের ইতিহাসেরর সাক্ষী ভাঙা রাজবাড়ি। সেই সাথে পাগল করা বসন্তের হাওয়া, সুন্দর একটা গন্ধ, সিমুলতলা ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ পাওনা। সন্ধ্যে নামল, আকাশে তারার খেলা, আমরা বাড়ির পথ ধরলাম।অন্ধকারের মধ্যে খস্খস পায়ের শব্দে পরিবেশটাই হয়ে উঠেছিল অসামান্য। রাতে ফিরে রুটি, দেশি মুরগী আর মহুয়া দিয়ে ডিনার সারলাম। মহুয়া এই প্রথম খেলাম। একটা বুনো গন্ধ। তবে গ্রাম্য ছোঁ য়া আছে। 
চাট গুলো মনমোহিনী থাকায় কিছুটা মহুয়া গলাধ করতে পেরেছিলাম। পরের দিনই ট্রেন। তাই ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে রাখলাম।পরেরদিন সকালে উঠে চান-চা পর্বসেরে বেরিয়েপড়লাম। আসার সময় প্রাণভরে যশোদা ধামের নির্যাসটুকু গ্রহণ করলাম। কেয়ারটেকার বজরঙ্গীভাইয়ের সাথে বেশ কিছু সেলফি নিলাম। অটো এসে হর্ণ দিতেই বেরিয়ে পড়লাম। দূরে পাহাড় গুলো দেখতে দেখতে এগিযে় চললাম স্টেশান এর দিকে....।।


আপনিও পাঠাতে পারেন আপনার ভ্রমন অভিজ্ঞতা, WhatsApp করুন এই নম্বরে: 70032 36180(লেখা এবং ছবিসহ), আপনার অভিজ্ঞতা আমরা পৌঁছে দেবো ৬৫ হাজার দর্শকের কাছে।
[ ন্যূনতম ৭টি ছবি এবং অধিকতম ১০টি ছবি ]

Comments

ঝলকে ৫

শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে চুঁচুড়া'য় জুট প্রশিক্ষণ শিবির, এবার আপনিও পেতে পারে স্থায়ী চাকরী। দেখুন -JANOBARTA

রাজেশ মন্ডল, হুগলী:  প্রশিক্ষন দিয়ে পাট শিল্পে চাকরির  উদ্যোগ নিল শ্রম দপ্তর। আজ চুঁচুড়ায় হুগলী জেলা পরিষদ হলে আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত।উপস্থিত ছিলেন  চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার, জেলা পরিষদের কর্মাদক্ষ‍্য মনোজ চক্রবর্তী, শ্রম দপ্তেরর আধিকারিক স্বাতী ঘোষাল,জেলা পরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমান,কর্ম বিনিয়োগ দপ্তরের আধিকারীক ও জেলা পরিষদের সদস্যরা।হুগলী জেলায় এগারোটি চটকল রয়েছে।রাজ্যে প্রায় ৫৫ টি।এই চটকল গুলো দক্ষ শ্রমিকের অভাবে পিছিয়ে পরছে।প্লাস্টিক বর্জন করে আবার চটের ব্যবহার বারছে তাই চটকল গুলোতে দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন।রাজ্য সরকারের শ্রম দপ্তর বিভিন্ন চটকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে প্রায় ত্রিশ হাজার ভ্যাকেন্সি রয়েছে চটকল গুলোতে।মূল স্পনিং আর উইভিং বিভাগে।তাই এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত বেকারদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করল শ্রম দপ্তর।প্রথম পর্যায়ে দুটি ব্যাচে ৪০ জন করে মোট ৮০ জনকে প্রশিক্ষিত করা হবে।পরে ধাপে ধাপে আরো প্রশিক্ষন দেওয়া হবে।একমাস হবে প্রথাগত প্রশিক্ষন দুই মাস হবে হাতে কলমে শিক্ষা।প্রশিক্ষন শেষে মিলবে চাকরি।প্রশিক্ষন চলা কালিন বৃত্তি দ...

চুঁচুড়া যুব সংঘ প্রেক্ষাগৃহে "চুঁচুড়া আলোয় ফেরা"র সভা - EHC

রাজেশ মন্ডল,হুগলী:  গত ২৯শে জুলাই রবিবার চুঁচুড়া ময়নাডাঙা যুব সংঘ ময়দানের সভা কক্ষে "চুঁচুড়া আলোয় ফেরা" ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক সভার। উক্ত সভায় মরনোত্তর চক্ষুদান শিবির করার পরিকল্পনাও করা হয় এবং আগমীদিনে চুঁচুড়া সহ বিস্তীর্ন অঞ্চলে এই ধরনের সুফল গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। উক্ত দিনে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ ইন্দ্রনীল চৌধুরী, ডাঃ পিনাকী নাগ, ডাঃ শ্যামল পান্ডে সহ বিশিষ্ট ডাক্তারা। এছাড়াও ছিলেন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। আগামীদিনে মরণত্তর চক্ষুদান কর্মসূচী যাতে আরও ভালোভাবে সারা দেয় সেই দিকে নজর দেওয়া হবে বলে জানা যায়।। Do Subscribe our Youtube Channel for more updates : Click Here ADVERTISEMENT একনজরে হুগলী চুঁচুড়া নিবেদন করছে... OFFICIAL BLOGPOST OF EKNOJORE HOOGHLY CHUCHURA